Wednesday, 19 January 2022
পরিসংখ্যান
Tuesday, 18 January 2022
হত্যার দিনলিপি
Monday, 29 November 2021
একটি উদ্দেশ্যহীন কবিতা
যেখানে নামার পর আর
গন্তব্য থাকেনা।
আমি প্রতিদিন এরম
একটা বা দুটো স্টেশনে নামি
হাঁটি,কবিতাগুলো দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দিই।
আবার অপেক্ষা করি
শেষ ট্রেনের...
Monday, 6 September 2021
পশ্চিম দেশের গপ্পো
প্ল্যানটা কয়েক দিন ধরে সাজাচ্ছিলাম কি করে পকেট ও দিন বাঁচিয়ে কিভাবে দুর্দান্ত একটা ট্রিপ মারা যায়। বন্ধুদের সাথে কথা বলে, ঘোরার গ্রুপে খোঁজ নিয়ে বউয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে সিদ্ধান্ত নিলাম সিমুলতলা যাবো। বিহারের, সিমুলতলা একটা সময় বাঙালির স্বাস্থ্যোদ্ধারের জায়গা ছিল। ছোটো ছোটো টিলা, তরতির করে বয়ে চলা নদী ,লাল মাটি দিয়ে সাজানো একটি ছোট্ট জনপদ।
যশোদা ধামে পৌঁছতেই কেয়ারটেকার বজরঙ্গি আমাদের বিছানা রেডি করে শোবার বন্দোবস্ত করে দিল। তখনও আলো ফু টতে বেশ দেরি, আমরা শরীরটাকে ছেড়ে দিলাম নরম গদিতে। ঘন্টা দুয়েক ঘুম দেবার পর ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত সুরে। ভালু আয়া, ভালু আয়া, কালু-লালু-মলু আয়া, তারহ তারহ সে খিলতা ফুল... মাস্টারজী পড়াচ্ছেন, বজরঙ্গির বাচ্ছা মেয়েটিকে। কতদিন বাদে এইরকম পরিবেশে কাউকে পড়তে এবং পড়াতে দেখলাম। মনটা ভালো হয়ে গেল। চায়ের অর্ডার দিয়ে হাঁটতে বেরোলাম। বাড়িটি বেশ ছোটখাটো প্রাসাদের মত দেখতে। চারিদিকে সেগুন আর শালের রাশি। এত বড় বাগান যে হেঁটে সম্পূর্ণ করা মুশকিল। চা খেয়ে রেডি হতে হতেই গরম গরম লুচি আর বাঁধাকপির তরকারি এসে গেল। খেতে খেতেই অটোকে ফোন করলাম। বেড়াতে যাবার জন্য আমরা প্রস্তুত।
অটোচালক রবি ভাইয়া আমাদের প্রথমে নিয়ে গেল হলদি ঝরণা দেখাতে। যেতে যেতে সিমুলতলার গ্রামীণ জীবন উপভোগ করলাম। কি সহজ সাধারণ জীবনযাত্রা। মাটির ঘর, ছাগল ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে ভরা সংসার। হলদি ফলসের কাছে আসতেই একগাদা ক্ষুদে গাইড আমাদের ঘিরে ধরল। ওদের সাথে চললাম পাহাড়-জঙ্গল ডিঙিয়ে। যেতে যেতে নীল আকাশের হাতছানি আর হাওয়ার শন-শন শব্দ আমাদের মন ভরিয়ে দিচ্ছিল। যাইহোক হলদির উৎসস্থলে এসে হতাশ হলাম। একটি সরু গর্ত দিয়ে ঠান্ডা জল বেরিয়ে আসছে, সেটাই পরে চওড়া হয়ে সরু নালার আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের মাথা থেকে গ্রাম দেখতে বেশ লাগছিল। আসার সময় ক্ষুদে গাইডদের খুচরোর আবদার মেটাতেই হল। ওখান থেকে চললাম ধারারা ফলস। ফলস না বলে নদী বলাই ভালো। মালভুমি অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হবার ফলে নদীর গতিপথে অসংখ্য বড় বড় পাথর। ফলে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে জায়গাটি। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতটাই ভালো যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু মুশকিল এখানকার গরীব শিশুগুলি। ওদের দেখলে মন ভারাক্রান্ত হতে বাধ্য। যাইহোক ওদের হাতে কিছু খুচরো দিয়ে আমরা যশোদা ধামের পথ ধরলাম। যশোদা ধামে ফিরে ডিম-ভাত খেয়ে একটু রেস্ট।বিকালে আবার লাট্টু পাহাড় যাবো।
যশোদা ধাম থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার হেঁটে প্রায় ৭০০ ফু ট উঁচুতে লাট্টু পাহাড়। সেখান থেকে সূর্যাস্ত স্বর্গ সুখের সমান। সামনে লাট্টু ভ্যালি, দূরে কয়েকশো বছরের ইতিহাসেরর সাক্ষী ভাঙা রাজবাড়ি। সেই সাথে পাগল করা বসন্তের হাওয়া, সুন্দর একটা গন্ধ, সিমুলতলা ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ পাওনা।সন্ধ্যে নামল, আকাশে তারার খেলা, আমরা বাড়ির পথ ধরলাম। অন্ধকারের মধ্যে খস খস পায়ের শব্দে পরিবেশটাই হয়ে উঠেছিল অসামান্য।রাতে ফিরে রুটি, দেশি মুরগী আর মহুয়া দিয়ে ডিনার সারলাম। মহুয়া এই প্রথম খেলাম। একটা বুনোগন্ধ। তবে গ্রাম্য ছোঁ য়া আছে। চাটগুলো মনমোহিনী থাকায় কিছুটা মহুয়া গলাধকরণ করতে পেরেছিলাম। পরের দিনই ট্রেন। তাই ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে রাখলাম।পরেরদিন সকালে উঠে চান-চা পর্বসেরে বেরিয়ে পড়লাম। আসার সময় প্রাণভরে যশোদা ধামের নির্যাসটুকু গ্রহণ করলাম। কেয়ারটেকার বজরঙ্গী ভাইয়ের সাথে বেশ কিছু সেলফি নিলাম। অটো এসে হর্ণ দিতেই বেরিয়ে পড়লাম। দূরে পাহাড় দেখতে এগিযে় চললাম স্টেশান এর দিকে.... আবার আসবো,কথা দিলাম...
Thursday, 20 May 2021
ওরা ভাসছে
ওরা আসছে
যমুনার জল ভেঙে
বুলান্দ দরওয়াজার গা ঘেঁষে।
বেনারসের একটা অনামী ঘাটে একবার ধাক্কা খেয়েছিল,
তারপর আবার ...
আসার আগেই কেউ কেউ
নিদ্রা নিয়েছে যমুনার পলিতে।
মিরকাশিমের তলোয়ারের কানায় যে রক্ত লেগেছিল,
সেই রক্ত শুষে নিয়ে
ওরা আসছে।
প্রয়াগ পেরিয়ে বক্সার
উন্নাও পেরিয়ে ধুলিয়ান...
ওরা ভাসছে।
রাজা তখন মখমলের চাদরে বসে -
দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে সেনাপতির সাথে
লাশের হিসাব কষতে ব্যস্ত।
একটা লাশ মানে কত টাকা হয় নায়েব?
এক একটা লাশে কতটা রাষ্ট্রীয় মাটি কেন যায় নায়েব?
হিসেব করো, হিসেব করো।
এই হিসাব আমার দরকার।
আর কটা লাশ যমুনায় ভাসলে,
রাজা তুমি প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে আসবে?
আর কটা লাশ?
ওরা কিন্তু আসছে
মনে রেখো রাজা
ওরা ভাসছে।
ছবি:পলাশ।
Wednesday, 12 May 2021
চিতা
কুয়াশায় ভিজে গেছে আমাদের সকালের রোদ
ভিজে গেছে, ডুবে গেছে,
ফিকে হওয়া নৈতিক বোধ।
সকালেই আমরা তো বিছিয়েছি রুপশালি ধান,
বুঝিয়ে দিয়েছি শক্তি, সনাতনী ভক্তি
আর শরৎ এর অদম্য অভিমান।
কিভাবে পালাবো জানিনা,বিভাজন কাঁটাতার আগলে
মৃদু হাসি, চোখের জলেতে ভাসি
চ্যালা কাঠ চিতা সেজে ডাকলে।
Thursday, 6 May 2021
লাশের পাশে
সারিন্দার শব্দ শুনতে পাচ্ছো?
সাথে মুর্শিদী গান?
আসলে,
ওটা আমার মায়ের
তেরশো চিতার কান্না,
শ্মশানে সারিন্দা হয়ে বাজছে।
আমি দূর থেকে দেখছি
লাশের একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে রাষ্ট্র।
ছবি:পলাশ।
Wednesday, 24 February 2021
একটি অ - রাষ্ট্রীয় কবিতা
ভুলিয়ে দিচ্ছ ইতিহাস তুমি, ভুলিয়ে দিচ্ছ ভূগোল
গুলিয়ে দিচ্ছ সমাজতন্ত্র শ্রমিক প্রেমিক যুগল।
বিক্রি হচ্ছে রান্নাঘর,দাদুর প্রিয় ছাতা
হারিয়ে যাচ্ছে রঙিন শিশি অর্থ হিসাব খাতা
নিলাম হচ্ছে রূপনারায়ণ - কংসাবতীর বলি
বাল্মীকির ওই মানসপুত্রে শীৎকারে অলিগলি।
দেশ বিভাজন মত বিভাজন আদর্শ যাক চুলোয়
কৃষকের ধান,শ্রমিকের মান মিশুক গিয়ে ধুলোয়!
আমরা বোকা হদ্দ বোকা লড়াই জানি নাকো,
মাঠের মধ্যে ফসল পুড়ছে পুড়ছে নদীর সাঁকো।
গঙ্গার জল যাচ্ছে মিশে পদ্মা নদীর পাড়ে,
গণতন্ত্র গুলিয়ে উঠছে বিষন্নতার ভারে।
পায়ের চামড়া ফাটছে দেখো মিছিলের পর মিছিল-
শহীদ রক্তে যাচ্ছে ভেঙ্গে অন্ত: রাষ্ট্র পাঁচিল।
ফোঁটা ফোঁটা স্বেদবিন্দু মাপছি রাখছি খাতায় তুলে
লড়াই হবে রাজার পথে,এসো রাজা পথ ভুলে।
কবিতাটি ' সাজি ' পত্রিকা, হুগলী জেলা ২১ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত।
আমার রাষ্ট্র পুড়ছে
শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম। চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে পুড়ে যাচ্...
-
শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম। চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে পুড়ে যাচ্...
-
তোমার সিঁদুর কিংবা তোমার প্রিয় শাড়ি... আচ্ছা ধরো তোমার সালোয়ার বা ওড়না এসব তোমার কি ছিলো? না রাষ্ট্র ভালোবেসে কেড়ে নিয়েছে ? মাটি, ধা...
-
রোজ বেচুদার গোলার পাশ দিয়ে যাচ্ছি আর দাঁড়িয়ে পড়ছি। একটু একটু করে গড়ে উঠছে মা... মায়ের হাত পা চোখ... আমি দেখছি তিলোত্তমার হাত পা ...








