Sunday, 1 November 2020

সিঁদুর কৌটো


সব ফেলে রেখে চলে যাবো 

সব সব

টিনের বাক্স, চিলেকোঠা, বরগা, বারান্দা

ভাঙ্গা পাঁচিলের গায়ে গজিয়ে ওঠা বটগাছ।

ফেলে যাবো-

কাগজ, ছেঁড়া দলিল, দাদুর ভাঙ্গা চশমাও...



শুধু নিয়ে যাবো

তোমার সিঁদুর কৌটো

যা ফেলে এসেছিলাম

দেশভাগের আগে বাঁধানো ঠাকুরঘরে।

Thursday, 20 August 2020

যে শব্দগুচ্ছ আগে লিখিনি

প্রথম পর্ব


গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যম। সাংবাদিক হবার ইচ্ছে ছোটো থেকে ছিল এমন না। লেখালিখি ছোটো থেকেই করতাম। শুরুটা ছিল অদ্ভুত। আমার এক বন্ধু মাস কমিউনিকেশান নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়। সেই বলে কোনো স্থানীয় সংবাদপত্র র সন্ধান করতে যেখানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শেখা যাবে। খোঁজ নিয়ে শুরু করলাম কাজ। প্রথম দিন মুখ চোখ কুঁচকে সম্পাদক বলেছিলো পারবে? বলেছিলাম একবার সুযোগ দিন। সেই শুরু...

 কাগজের নাম আমি বললাম না। সেইসময় প্রিন্ট মিডিয়ার যথেষ্ট দাপট ছিলো। আমার মনে আছে আমার প্রথম assignment ছিলো বাম যুব কমিটির প্রকাশ্য সভা কভার করা। এটি ব্যান্ডেল স্টেশনে হয়েছিল। সাইকেল নিয়ে গেছিলাম। তখন আমার গাড়ি ছিল না।কাগজে নিজের নামে খবর দেখে ভীষণ আনন্দ হয়েছিল।আমার বন্ধুটি আর সংবাদ জগতে না থাকলেও আমি থেকে গেলাম। তবে ফুল টাইম সাংবাদিক হতে পারিনি।আমি অন্য একটি কাজে পুরোপুরি ভাবে যুক্ত। যাই হোক, চলতে থাকলো। সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে ধীরে ধীরে এলাকার ডান, বাম ,অতি বাম, মন্ত্রী ,মন্ত্রীর ডান হাত, পুলিশ সবার সাথে পরিচয় হতে লাগলো। তখন ছোটো সবাই মজা করতো, সাংবাদিক বলে।

২০০৬ সাল, বিধানসভা নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রবীন্দ্রনগর মাঠে। আমি গেলাম কভার করতে।আমার প্রথম এত বড় রাজনৈতিক সভা কভার। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্লোগান ছিল- "হয় এবার নয় নেভার"। মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে ছোটো কাগজে ওনার ভাষণের মূল বক্তব্য নোট করেছিলাম। একটা গোটা পাতার বেশিরভাগ জুড়ে খবর টা বেরিয়েছিল। সাংবাদিক হয়েছি, বিতর্ক থাকবেনা তাই কি হয়? হুমকি? তাও শুনেছি, সেগুলো নিয়ে পরে লিখছি।

এখানে কাজ করতে করতেই আলাপ হয় উত্তম চ্যাটার্জির সাথে। উত্তম দার হাত ধরে প্রতিপক্ষ কাগজে লেখা শুরু করলাম। চন্দননগর থেকে বের হতো। প্রতিপক্ষ কাগজের সম্পাদক ছিল গৌতম দে সরকার। গৌতম দার সাথে আজও আমার সম্পর্ক প্রায় পারিবারিক। গৌতম দার কাছেই শিখি একটা খবরকে কিভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হয়। খবর কোন এঙ্গেল দিয়ে করতে হবে। খবরের হেডিং কিভাবে আকর্ষণীয় করতে হবে। প্রতিপক্ষ তে লেখা শুরু করতে আমার প্রথম কাগজের সম্পাদকের রাগ হল । আমি লিখে কোনো টাকা পেতাম না। ভালবাসতাম তাই লিখতাম। পুরোনো কাগজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। প্রতিপক্ষতে লিখতে থাকলাম। সেই সাথে অন্য জেলার ছোটো কাগজ গুলোতে লেখা দিতাম। বেশ কিছু লেখা প্রকাশিতও হয়েছে। 


দ্বিতীয় পর্ব


ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজটাই করতাম আমি। গালভরা একটা ডেজিগনেশন- সাংবাদিক। কিন্তু পকেটে টাকা নেই। টুক টাক টিউশনি করি, হাত খরচ উঠে যায়। সম্পূর্ণ ভালোলাগা থেকেই কাজটা করতাম। নিজের নামে খবর বেরোচ্ছে এটা দেখেই পেট ভরাতাম। নেতারা বাই নেম চেনে, থানায় গেলে পুলিশের বড়- মেজ কর্তারা জিজ্ঞাসা করে কি লিখলে গো এবার? ব্যস এটুকুই। খেলার মাঠে যাতায়াত টা একটু বাড়ালাম। ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তনুময় বাসুর সাথে খুব ভালো আলাপ জমে গেলো। তনুময় দার সাথে আজও যোগযোগ অটুট। আমাকে নিয়মিত খেলার খবর দিত। একবার মোহনবাগান চুঁচুড়া মাঠে খেলতে এসেছিল। টিকিট তো পেয়েইছিলাম সেই সাথে সামনের সারিতে বসার সুযোগটাও জুটেছিল। মোহনবাগান সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল হুগলি একাদশের বিরুদ্ধে।

 যে কাগজ গুলোয় লিখতাম সেই কাগজগুলো যে বিশাল লাভ করতো তা নয়। এই জেলার কাগজগুলো চলেই নিজেদের পকেটের পয়সায়। তারা কি করে টাকা দেবে? বিজ্ঞাপনও নেই সেভাবে। থাকলেও অনেকে টাকা দিতে ঝোলায়। যারা কাগজ করে তারা এই কষ্টটা বুঝতে পারবে।


অর্থকষ্টে প্রতিপক্ষ বন্ধ হয়ে গেল। আমারও কষ্ট হয়েছিলো। এই কাগজেই আমার লেখা শেখা। অনেক সুন্দর সুন্দর কভার স্টোরি করেছি এই কাগজে।

এই সময় উত্তম দা একটি কাগজ শুরু করে। নাম রাজনৈতিক ঝড়। এই কাগজে লেখার জন্য আমি টাকা পেতাম। কত পেতাম সেটা বলার মত না, তাও পেতাম। উত্তম দার এই সততা আমার ভালো লাগে। পাগল এক সম্পাদক। সারাদিন বিড়ি ফুঁকে প্রবল অর্থনৈতিক কষ্ট সমলেও কাগজ টা ঠিক করে যাচ্ছে।জেলার বহু কাগজ আজ বন্ধ হয়ে গেলেও রাজনৈতিক ঝড় কিন্তু আজও বের হয়। আমি এখনও আমার কাজ সামলে উত্তম দার অনুরোধে লিখি।

 ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন অনেক টিউশনি করতাম। কাগজে লেখা থেকে প্রায় ডিটাচ।ইউনিভারর্সিটি থেকে বেরিয়ে আমি আমার পথ বদল করি। পেটের তাগিদে কাজ খুঁজতে শুরু করি। এদিক ওদিক ইন্টারভিউ দিতে থাকি। পেট চালানোর জন্য একটা চাকরি খুব দরকার।

এই সময় হঠাৎ সুযোগ পাই নিউজ ইন্ডিয়া নামে একটি কাগজে সম্পাদনার কাজ করার। এবং অবশ্যই মাইনে সহ। গৌতমদাকেও নিয়ে আসি। শুরু করি একসাথে কাজ।এক বছরের মধ্যে মানুষের কাছে দারুণ সাড়া ফেলে। কাগজের মালিক কাগজের জন্য যথেষ্ট টাকা ইনভেস্ট করেছিল। ওই সময় নিউজ ইন্ডিয়ার মত ওত সুন্দর কাগজ জেলায় ছিলো না। আমি, গৌতম দা, অমিত দা আর শুভজিত এই ছিল আমাদের নিউজ ইন্ডিয়া টিম। অফিসে আমরা খুব আনন্দ করে কাজ করতাম। আমি আর গৌতম দা খবর কভার করতাম,অমিত দা আর শুভজিত ডেস্ক সামলাতো। কাগজে কাজ করার বিভিন্ন মজার, দুঃখের, হুমকির ঘটনা পরে লিখছি।

এক বছর চলার পর এই কাগজও মুখ থুবড়ে পড়ল। জেলার কাগজগুলোর ক্ষেত্রে যা হয় এখানেও তাই হলো। বিজ্ঞাপন নেই, খরচ দিন দিন বাড়তেই থাকলো। চুঁচুড়ায় বসে কলকাতা থেকে প্রতি সপ্তাহে কাগজ আনা, ডিস্ট্রিবিউশন এগুলোর খরচ বাড়তেই থাকলো। ফলে মালিকের পক্ষে আর টানা সম্ভব হলো না।

বেকার হয়ে গেলাম।এই কাগজে কাজ করতে করতেই আমার বর্তমান কাজের ব্যাপারে খোঁজ খবর শুরু করি। নিউজ ইন্ডিয়া বন্ধ হবার সাথে সাথেই আমি আমার বর্তমান প্রফেশনে জয়েন করি। সাংবাদিকতা জগতের থেকে এই কাজ সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী হলেও সাংবাদিকতাকে কখনো ছাড়িনি।



তৃতীয় পর্ব


তো চাকরি জীবন শুরু হলো। সাংবাদিকতা থেকে কিছুদিন দূরে থাকলাম। মানে থাকতে হলো আর কি।লেখার মত কোনো কাগজ নেই। তার ওপর নতুন চাকরি। সেখানে কাজ শেখার ব্যাপারটাও আছে। আর আমার নতুন চাকরির সূত্রে সারাদিন প্রায় রাস্তায় কাটাতে হয়। ফলে বাড়ি এসে আর লেখা সম্ভব হতো না। আর খবর সংগ্রহ করার জন্য ফিল্ডে যেতেও পারতাম না। ফলে খবর থেকে একটু একটু করে দূরত্ব বাড়তে থাকলো।মাথার মধ্যে খবরের জট কিন্তু পাকতেই থাকে। কিভাবে আবার খবরে ফিরবো তা কোনোদিন মাথা থেকে যায়নি।

এমন সময় সিদ্ধান্ত নিলাম নিজেই একটি কাগজ করবো।২০১৬ তে শুরু করি আমার নিজের সম্পাদনায় জনবার্তা নামে একটি পাক্ষিক সংবাদপত্র। ট্যাগলাইন ছিল আকারে নয় খবরে বড়। প্রথম চারটি সংখ্যা ৭.৫/১০ সাইজ করলেও পরে ডবল সাইজ করি।

আবার গৌতম দা। খবরের ব্যাপারে আমি গৌতম দাকে অসম্ভব বিশ্বাস করি। গৌতমদাই জনবার্তার লে আউট করে।খবরের কাগজে লিড, সেকেন্ড লিড, অ্যাঙ্কর, সোলাস অ্যাড , ইয়ার প্যানেল এসব জেলার কাগজগুলোর অধিকাংশই করে না। আমি করতাম। কাজ করতে করতেই এগুলো গৌতম দার কাছে শেখা।পাঁচ কলমে কাগজ টা করি। কাগজের গেট আপ নিয়ে আমি খুব খুঁতখুঁতে ছিলাম।

কাগজ আমি কোনোদিন বিক্রি করিনি। আমি নিজের পকেটের টাকায় কাগজ করতাম। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, থানা ও সাধারণ মানুষকে এমনি কাগজ দিতাম। আমার মনে হতো আমি যে খবরগুলো তুলে ধরতাম মানুষ সেগুলো পড়ুক, জানুক।অনেকে এই নিয়ে আমাকে ব্যাঙ্গ করতেও ছাড়েনি। তাতে আমার কিছু যায় আসেনি। আসলে লোকে কি বললো এসব নিয়ে কোনোদিন আমি ভাবিনি। আজও ভাবিনা। এ প্রসঙ্গে বলি এগারো বছর ধরে আমি যাচ্ছেতাই বলে একটি লিটল ম্যাগাজিন করি। তার জন্যও কোনোদিন মানুষের থেকে টাকা নিইনি। যারা দিয়েছে নিয়েছি। পত্রিকা নিয়ে অন্য পর্বে আলোচনা করবো। যাই হোক কাগজে ফিরি।জনবার্তা করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখলাম। আমি সবসময় রাজনীতির বাইরে গিয়ে খবর করার চেষ্টা করেছি। এমন খবর যা কখনো খবর হয়নি। প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছি, যাদের কথা কেউ বলেনা। নিজের কাগজ হওয়াতে এটা অনেক সুবিধা হয়। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া কাগজ মানুষ খুব একটা পড়ে না। শুধুমাত্র অন্য খবর দিয়ে কাগজ চালানো মুশকিল।এটা আমি লক্ষ্য করেছি।

জনবার্তা করতে গিয়ে অনেক বেশি মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হলো। এলাকার নেতা মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ সেই প্রথম দিন থেকেই ছিল। প্রথম দিকে নিজেকে পরিচিত করাবার যে ব্যাপারটা ছিল জনবার্তা করার সময় সেটা আর করতে হয়নি। আমাকে তখন মোটামুটি সবাই চেনে। স্মার্ট ফোনের যুগ, খবর আসে তাড়াতাড়ি। ইন্টারভিউ ফোনেই করা যায়। আমার মনে পরে তখন বিধানসভা নির্বাচন। আমাদের বিধানসভার তৃনমূল প্রার্থী অসিত মজুমদার।২০১১ থেকে অসিত কাকার সাথে পরিচিতি। দুপুরে ফোন করলাম- তোমার একটা ইন্টারভিউ করবো, বললো সন্ধ্যে বেলা বাড়িতে আয়। লিড করেছিলাম। হেডিং ছিল- আমার কেন্দ্রে আমিই তারকা: অসিত মজুমদার। পরের সংখ্যায় খবর করেছিলাম হুগলীর বেশ কিছু আসনে চাপে তৃনমূল। পান্ডুয়া ও চন্দননগর আসন নিয়ে চাপ আছে তা লিখেছিলাম। পান্ডুয়া আসনে হেরেছিল সেবার তৃণমূল। চন্দননগর থেকে খুব অল্প ভোটে ইন্দ্রনীল সেন জিতে যায়। বেশ কিছুদিনের মধ্যেই জনবার্তা বেশ পরিচিতি লাভ করলো। বেশ কিছু বিতর্কিত খবরও করলাম। বিতর্কিত খবর ও হুমকি নিয়ে পরের একটি পর্বে আলোচনা করবো।জনবার্তা চলছিল। পাক্ষিক হিসাবে থাকলেও কাজের চাপে সম্ভব হচ্ছিল না। খবর লেখা, ডিটিপি করা, প্রুফ দেখা, ছাপানো, বিলি করা সব একার দ্বারা হচ্ছিল না। টানা তিন বছর কাগজ চালানোর পর বন্ধ করে দিলাম। পারছিলাম না।আমার চাকরি জীবনেও পরিবর্তন এলো। প্রমোশন নেওয়াতে কাজের চাপ বাড়লো।আরও একটা জিনিষ লক্ষ করলাম, মানুষ কাগজ পড়ার থেকে খবর দেখাতে বেশি আগ্রহী। আর স্মার্ট ফোনের যুগে এটা আরও বেশি। কাগজ বন্ধ, কিন্তু খবরের ভুত তো মাথা থেকে নামবে না।এই সময় আমার একটি সাকরেদ জোটে, আমরা একসাথে খবরের ফর্ম্যাটটা বদল করি। শুরু হয় নতুন একটা ইনিংস...


চতুর্থ পর্ব


নতুন ইনিংস শুরু করার পিছনে মূল উদ্যোগ টা ছিল আমার সাকরেদের। আমার ছাত্র কাম ভাই সৌম্য- র। ওকে ক্লাস নাইন থেকে পড়াতাম আমি। মহা ফচকে একটা ছেলে। ফোন, নেট, ওয়েব এসব ব্যাপারে ওর আগ্রহ একটু বেশি।২০১৬ সালে আমাদের শহর নিয়ে ও একটা ফেসবুক পেজ তৈরি করে, নাম দেয় একনজরে চুঁচুড়া। তখনও এর সাথে খবর কিন্তু ঢোকেনি। শহরের ছবি, নানা কথা এসব তুলে ধরা হতো।আমি আর সৌম্য আলোচনা করে পেজের নাম করি একনজরে হুগলি চুঁচুড়া। ওকে যখন পড়াতাম তখন জনবার্তা ছিল। ওর আগ্রহ ছিল খবরের প্রতি, এটা বুঝতাম।

২০১৮ তে দিল্লি রোডে লরি উল্টে যাবার খবর দিয়ে আমাদের পোর্টাল শুরু হয়। একনজরে হুগলি চুঁচুড়া। আমরা যখন পোর্টাল শুরু করি তখন এত পোর্টাল ছিল না। এখন তো অনেক সাংবাদিক নিজ উদ্যোগে পোর্টাল চালান।

যাই হোক, একদিন দুপুর বেলা সৌম্য হঠাৎ ফোন করে বললো স্যার লরি উল্টে গেছে, এটা নিয়ে একটা খবর করলে কেমন হয়? আপনি একটু লিখে দেবেন? সেই শুরু... ফেসবুকে খবর দিয়ে।


তারপর খবর কে কি করে ডিজিটাল মাধ্যমে আনা যায় এই ভাবনা থেকে সৌম্য একটা ব্লগ তৈরি করে। ওয়েবসাইট  করার মত টাকা নেই। তাই ব্লগেই সই। কাগজে না লিখে ব্লগে লিখতে থাকলাম। ছবি সহ। দরকারে ভিডিও। এক ক্লিকে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেল ও আমরা তৈরি করি। খবরের এক নতুন দিগন্ত খুলে গেলো।

এই দুই বছরে আমাদের পোর্টাল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ব্লগের ভিউয়ার্স দু'লক্ষ ছাড়িয়েছে। একদিন ও একটা বুম বানিয়ে ফেললো।সৌম্য বললো আপনি গ্রাউন্ড করুন। সাহস করে করেই ফেললাম। জেলায় খুব কম পোর্টাল আছে যারা গ্রাউন্ড করে খবর করে। এডিটিং টা খাসা করে ও। দেখলাম মানুষ নিচ্ছে। অনেক রকমের খবর করতে থাকলাম। পুজোর সময় পুজো প্রস্তুতি নিয়ে বিগত দু বছর টানা লাইভ করলাম।কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ আমাদের লাইভ দেখলো। ওর পড়া, আমার কাজ, ব্যস্ত জীবন। সব সামলে খবরের প্রতি ভালোবাসা থেকেই খবর টা করে যাওয়া। না টাকা পাইনা। পাবার চিন্তাও করিনা। খবর আমার পেশা নয়, নেশা। এখন অবসর সময় পেলেই খবর করতে বের হই। দীর্ঘ লকডাউন সময়ে আমরা টানা খবর করেছি। তুলে ধরেছি মানুষের সমস্যার কথা। সেগুলো পৌঁছে দিয়েছি নেতা আমলা মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে।

এই বছরে আমরা ভাবলাম আমাদের পোর্টাল এর নাম টার মধ্যে বড্ড আঞ্চলিকতা। এমন একটা নাম দরকার যা সর্বজনীন হবে। সেই ভাবনা থেকেই সংবাদ একনজরে। ট্যাগলাইন- নজরে জেলা খবরে বাংলা। রাজনীতির বাইরে গিয়ে পোর্টালে একাধিক খবর করছি। আমি চিরকাল ভালো খবরে বিশ্বাসী। এমন খবর যা মানুষকে ভাবাবে, মানুষের উপকার হবে। লকডাউন সময়ে মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরেছি, যা কোনও মিডিয়া দেখায়নি।ব্লগ ও ইউটিউব দুই মাধ্যমে সংবাদ একনজরে সচল।

পঞ্চম পর্ব


সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নানা ঘটনার সম্মুখীন হয়ছি বহুবার। মজার ঘটনা, হুমকি, ভয় ও । কাজ করার সময় প্রেস কনফারেন্স এ গেছি অনেকবার। তখন প্রতিপক্ষ তে। আমি আর গৌতম দা গেছি জেলা সভাধিপতি আমন্ত্রণে। আমাদের জেলা পরিষদের নতুন হলে। সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিক দের টিফিন দেবার রীতি চালু আছে। জেলায় বেশ কিছু সাংবাদিক আছে যাদের টিফিনের প্রতি খুব লোভ। নাম আমি বলবো না, এমন এক সাংবাদিক দুটি টিফিন ব্যাগে পুরেছেন। কচুরি আলুরদম ছিল বোধহয়, তার মধ্যে কোনো একটি বাক্স হয়ত ছিঁড়ে গেছে, ফলে তেল ঝোল পরে সেই সাংবাদিকের পাঞ্জাবি হলুদ হয়ে গেছে। কোনো এক অধিকর্তা সাংবাদিক কে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন - আপনার কি শরীর খারাপ। কিন্তু তার কোনোদিকে নজর নেই। পরে তিনি বুঝতে পেরে লজ্জায় লাল (হলুদ) হয়ে গেছিলেন।

আমার প্রথম কাগজে কাজ করার সময় উত্তম দা একটি খবর দেয়। চন্দননগর এর একটি স্কুলে মিড ডে মিলের টাকা ঢুকছে শিক্ষক দের পকেটে। এটা খবর করতে হবে। সাজিয়ে গুছিয়ে খবর টা করলাম। কাগজে আমার নামে বের হলো। কিছুদিন বাদে সম্পাদক মহাশয় ডেকে পাঠালেন। কি করেছ তুমি। এসব খবর করছো? কোর্টে কেশ হলে সামলাবে তুমি? আমি একটু ভয়ই  পেলাম। পরে জেনেছিলাম শিক্ষকদের একাংশ সম্পাদককে বলেছিল এসব বাড়াবাড়ি না করতে। দরকারে কপালে প্যাদানি জুটতে পারে। ভাগ্য ভালো মারধোর খেতে হয়নি।

তখন জনবার্তা জোরকদমে চলছে। চুঁচুড়া হসপিটালের ভিতর টোটো প্রাইভেট গাড়ির আড্ডা ছিল মারাত্মক। খবর করলাম। অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার উপায় নেই। তখন আমাদের মাঠে তাঁত মেলা চলছে। রত্না দে নাগের সাথে দেখা। তখন উনি হুগলির সাংসদ। দিদি কে কাগজ দিলাম। দিদির সাথে তৎকালীন উপ পৌরপ্রধান অমিত রায় ও ছিল। সামান্য দু একটা কথা হয়েছিলো দিদির সাথে। আমার থেকে জানতে চাইলেন টোটো দৌরাত্ম্যের কথা। অমিত কাকা কে সঙ্গে নিয়ে পরের দিন সকালেই দিদি চলে গেছিলেন চুঁচুড়া হাসপাতালে। প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ধমক দিয়ে হসপিটাল চত্ত্বর খালি করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর চুঁচুড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ এক নেতা আমাকে বলেছিলেন- কি সব লিখছিস টোটো নিয়ে, এসব লিখিস না,ওরা করে খায়। এটা যে পরোক্ষ হুমকি তা বুঝেছিলাম।

জনবার্তায় গৌতম দা একটি খবর করেছিল এক বর্তমান মন্ত্রীর নামে। স্তাবকবৃন্দের ভীড়ে মন্ত্রী। একদিন আমার কাজে রয়েছি। এক নেতার নাম করে ফোন এলো।আপনার কাগজে এসব লিখেছেন মন্ত্রীর নামে। আপনি কাগজে ক্ষমা চান, না হলে বলুন কোন সাংবাদিক লিখেছে। আমি বললাম আপনার যা অভিযোগ আপনি লিখে জানান, আমরা সেটা প্রকাশ করবো। সেই ভদ্রলোক নাছোড়, না আপনাকে কাগজে ক্ষমা চাইতেই হবে। না হলে দেখে নেবার হুমকি। আমি খুব নম্র ভাবে তাকে বলেছিলাম সংবাদপত্রের একটি স্বাধীনতা আছে, আপনার কোনো খবর ভুল মনে হতেই পারে, আপনি আমাদের চিঠি লিখে জানান আপনার ঠিক কোথায় আপত্তি। না হলে আমি কিছু করতে পারবো না। যাই হোক তিনিও আর লেখেন নি, আমাকে কেউ দেখেও নেয়নি।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচন। ভোটের ঠিক আগের দিন সকালে আমি আর গৌতম দা হুগলির এক প্রথম সারির তৃনমূল নেতার অফিসে বসে আছি। জেলার প্রায় সব সাংবাদিক আছে। চা বিস্কুট খাচ্ছি। আড্ডা চলছে। কে কোথায় কভার করবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কলকাতার প্রথম সারির ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার এক সাংবাদিক নেতাকে জিজ্ঞাসা করলো- কি মনে হচ্ছে দাদা? কোথায় অশান্তি হবে? দাদা বললেন সব ঠিক আছে কিন্তু ধানিয়াখালিতে একটু অশান্তি হবেই। সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় ফোন, একটা ক্যারাভান লাগবে। গন্ডগোল হোয়েছিল কিন্তু ঠিক কতটা মনে নেই।








Sunday, 12 July 2020

এখনও সব কলম বিক্রি হয়ে যায়নি



এখনও সব কলম বিক্রি হয়ে যায়নি
তাই রাষ্ট্র ভয় পায়।
চার দেওয়াল তুলে
আটকে রাখতে চায় কলমকে!
ভেদবমিতে মৃতপ্রায় কলমের
গলা টিপে হত্যা চায় রাষ্ট্র।
অন্ধকারে কলম কেড়ে নিয়ে
ভয় দেখাতে পারে রাষ্ট্র।
কিন্তু ভয় পাচ্ছে কে?

সব কলম বিক্রি হয় না,
তাই রাষ্ট্র ভয় পায়।
 


Friday, 12 June 2020

কাঁটাতারটাই যত নষ্টের গোড়া


কাঁটাতারটাই যত নষ্টের গোড়া,
ছোটবেলায় হঠাৎ একদিন দেখলাম-
বাবা আর জেঠু একতারা কাগজ নিয়ে ঢুকলো!
বাবা মাকে চিৎকার করে বললো-
বাগানের ঘর টা থেকে সব বার করে নাও,
ওটা আমার ভাগে না।
বড়দিদির ঘরটার মাঝে একটা দাগ কাটা হলো,
ইট দিয়ে তৈরী হলো কাঁটাতার।
জামরুল গাছটা জেঠুর ভাগে,
আমি বোকার মত বড়দিদি কে প্রশ্ন করলাম-
আমাকে আর জামরুল দিবিনা?
বড়দি কোনো কথা বলেনি সেদিন!
মা গ্যাস নিয়ে সরে এলো রান্নাঘরের একপাশে।
পরদিন দেখলাম ইট, বালি, সিমেন্ট
উঠোনের মাঝখানে উঠলো কাঁটাতার।
ছোড়দি রোজ মায়ের কাছে গুড় রুটি খেত'
সেদিন থেকে আর আসেনি।
বাবাকে সারাদিন দেখেছি
একদৃষ্টে কাঁটাতারের দিকে তাকিয়ে থাকতে।
বড়দি, ছোড়দি, জেম্মা সব কেমন
অপরিচিত হয়ে যেতে লাগলো দিন দিন।
সেদিন বুঝিনি, আজ বুঝি

কাঁটাতারটাই যত নষ্টের গোড়া।

Friday, 22 May 2020

পরিযায়ী

পরিযায়ী শ্রমিক। নামটাই অদ্ভুত । কিন্তু গোটা দেশ, হ্যাঁ আমার দেশ ওদের ওই নামেই ডাকে। কাজ বন্ধ, রাষ্ট্র তাদের বাড়ি ফেরার আর্তনাদ শুনতে পায়নি, বলা ভালো শুনতে চাইনি ।তাই নিজেরাই রেলপথ ধরে ফিরছিল। ক্লান্তি জড়িয়ে আসায় লাইনেই ঘুম। রাষ্ট্র নিয়ে গেল তাজা ১৬ টি প্রাণ। আমি চিৎকার করে কাঁদতে পারিনা, প্রতিবাদ করতে পারিনা, ওদের কাছে ছুটে যেতে পারিনা, লিখতে পারি, তাই লিখলাম, পলাশ আঁকতে পারে,তাই আঁকলো, আমার দেশের ১৬ জন নাগরিকের কাছে আমরা ক্ষমা চাইছি...






দেশ আমার শুয়েই ছিলো
পিপাসার্ত গলায়
রাষ্ট্র নামক রেলগাড়িটার
লোহার চাকার তলায়।

রাত্রি তখন মাঝ আকাশে
ক্লান্তি ওদের পায়
ঘুমিয়ে গেলেও জানতো না যে
জীবনটা শঙ্কায়।

কাজ ছিলনা ছাদ ছিলনা
নাম ছিলনা জানা
ঘুমিয়ে ছিলো লোহার পাতে
রাষ্ট্র দিলো হানা।

অসহায় ওরা নিরুপায় ওরা
চাঁদের ঘরেতে বাস
পরিযায়ী প্রাণ, শ্রমিকের মান
নিমেষেই হলো লাশ।

ঘুরেও দেখিনি রাষ্ট্রপিতা
লাশেতে পড়েনি ফুল
পরিযায়ী নাম জন্ম ওদের
চূড়ান্ত এক ভুল।

শোকপ্রস্তাব পাঠ হয়নি তো
স্মৃতিও চারণ নয়
খেটেখাওয়াদের যন্ত্রণা বুঝি
মৃত্যুমুখীই হয়।





Tuesday, 5 May 2020

হেমন্তের আজান

হেমন্তের আজান

অজানা একতারা ডাকে
হেমন্তের আজানে
ঠোঁটে নামে অন্ধকার
হঠাৎ ডালিম বাগানে।

ফুসফুসে বিড়ি পাতা
শ্বাস নেয় আরো
নিকোটিনে ভরে ওঠে
হৃদয়ের গুড়ো।

তুমি একা জানলায়
আমি খোলা মাঠে
প্রেমের পদ্য লিখি
সিঁদুর হাতে।

হেমন্ত উঁকি মারে
মাঠেঘাটে রোদ
আড়চোখ দেখে নেয়
অসাম্য বোধ।

প্রতিবাদী হতে পারি
তবু মনে ভয়
বিধাতা তো একজনই
ঈশ্বরই হয়।

Friday, 1 May 2020

সবুজ ঘ্রাণ



লাশ জমেছে দূর পাহাড়ে
রাতে ভন ভন মাছি,
টান পড়েছে চাল ভাঁড়ারে
তবুও বেঁচে আছি।

পাড়ায় পাড়ায় খাট আসছে
তুলসিপাতা চোখে
ভুলেই গেছে কাঁদতে মানুষ
পাথর জমা শোকে।

হারিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা রঙ
আকাশ শুধু নীল
শহরজুড়ে উড়তে থাকে
মনভাগারের চিল।

পথের ধুলো যাচ্ছে মিশে
বেদনার সাথে কালো
এই সুযোগে রাখাল তুমি
নিষিদ্ধ দ্বীপ জ্বালো।

আমরা সবাই হাততালি দিই
ফসল মরে মাঠে,
সবুজ ঘ্রাণের আশায় চাষী
বাজার সাজায় হাটে।

আমার রাষ্ট্র পুড়ছে

  শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি  পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া  মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম। চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে পুড়ে যাচ্...