Saturday, 11 February 2023

বসন্ত রং

 




এক ঘর বসন্ত রং নিয়ে
বসে আছি।
তোমার শীতের চুল শুকানো গন্ধ
আমার ফেলে আসা নদীকে মনে করায়।
যে নদীর ধারে তোমায় দেখে বনলতা ভেবেছিলাম।


একটু একটু করে হাওয়া দিচ্ছে
ভাবছি বসন্ত নয় হেমন্ত দিন ।
তোমার প্রিয় বলে বসন্তেই ঘর বাঁধছি।
ঘরের ভিতর ঘর 
মনের ভিতর ঘর
সব একাকার।


প্রেমের কবিতা লিখতে গিয়ে 
রোদের ভিতর হারিয়ে যাচ্ছি।
মনে পড়ছে আমার শৈশব
গ্রামের বাড়ি
দিদার জলচৌকি।
তাতে ঠাকুরের জামা শুকোচ্ছে।


তোমায় নিয়ে একদিন সীমান্তে যাবো
ওপারের রোদ কিভাবে এপারে আসে
তোমায় দেখাবো।
তোমায় দেখাবো একটা ছেঁড়া জামা
বসন্ত রঙের
আমার দাদুর।
দিদুনের বাড়ি থেকে পাওয়া
শেষদিন অবধি যত্নে রাখা।
আহা কি ভালোই না বাসতো।


চলো একটু রং মাখি
তোমার হাতে প্রতিশ্রুতির কুঁড়ি দিই একটা দুটো
ফুটলে ফেলে দিও
প্রেমিক গাছ পাতা ঝরতে ঝরতে
একদিন ঠিক গুছিয়ে নেবে নিজেকে।



এক ঘর বসন্ত রং নিয়ে
বসে আছি।
তোমার চুলের গন্ধ আসছে।
পলাশ রাঙা আকাশ দেখছি -
আমি লীন হয়ে যাচ্ছি
বসন্তে।


Friday, 3 February 2023

হাতটা এবার মুঠো করে নাও

 




প্রতি রাতে একটি নাগরিক হত্যা হচ্ছে
আমার আকাশে।
সে আমার প্রতিবেশী হতে পারে
বা বন্ধু কিংবা অচেনা...
রাষ্ট্র এগিয়ে আসছে দাঁত নখ বার করে
আমার দিকে!

পাখির ডাক নরম হয়ে আসছে
গোধূলির আলোয়
এসো দু দণ্ড বসি
একটু কথা বলি।

Tuesday, 17 January 2023

দাফন

 



আমার শেষ কবিতার দাফন সারলাম আজ
চারিদিকে টুকরো টুকরো কিছু মাটি
ছেঁড়া কাগজ
অনেকগুলো অসম্পূর্ণ কবিতা...
দেশভাগের দলিল টা পড়ে রইলো 
আমার সাথে আসা প্রায় তিরিশ জনের কাছে।
মায়ের মুখটা মনে পড়লো একবার
খুব ভেঙে যাওয়া একটা মুখ।
বেশ কিছু পাঠক দূরে দাঁড়িয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছিল
কি লিখতে পারলাম কি পারলাম না।
আমার সন্তান এসে মাথায় হাত রাখলো
আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম।

ঘুম আসছে,গভীর ঘুম...




Sunday, 8 January 2023

ভাগশেষ

 


সকাল থেকে সন্ধ্যে ভাগ হলো 
ভাগ হলো দুপুর,
কাঁসার থালা,গেলাস, বাটি
পায়রা থাকার খাঁচা।
যা দু একটা ছেঁড়া নকশা ছিল...
কৃষ্ণকান্তের উইলের প্রথম ৪৬ পাতা
তাও ভাগ হয়ে গেল।
আমি ভাঙতে ভাঙতে শেষ পাঁচিলের কাছে দাঁড়ালাম।
আমার মায়ের হাতে এক গাছা চুড়ি,
বাবার চোখের জল নিয়ত লুকোনোর চেস্টা
সব শেষ ।


ভাগশেষ শুধু কাঁটাতার।


Sunday, 11 December 2022

যতবার পা দিয়েছি মহানগরে

 


যতবার পা দিয়েছি মহানগরে
ততবার দেখেছি অজস্র পায়ে ক্ষত
আমি ডিঙিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি
ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে যেতে চেয়েছি ক্ষতস্থানের।
মহানগর রাতে বিকিয়ে দিয়েছে শরীর
শরীর বেয়ে নেমেছে হিম।
আমি দেখেছি -
কিভাবে নগর ভেঙে জেগে ওঠে মহানগর
কিভাবে জল জেগে থাকে সারারাত
কিভাবে শব্দ ধীরে ধীরে শব্দহীন হয়
কিভাবে মানুষ খুঁজে নেয় আশ্রয় ।
দেখতে দেখতে পেরিয়ে নিয়েছি পথ
না রাজপথ।

যতবার পা দিয়েছি মহানগরে
দেখেছি...



Saturday, 3 December 2022

মৃত্যুর আগে

 


কি লিখেছি জানি না
আগামীদিনে লিখতে পারবো কিনা 
তাও জানিনা।
রাষ্ট্র আমার হাত থেকে কলম কেড়ে নেবে
না,নতুন কলম তুলে দেবে জানিনা।
শুধু মৃত্যুর আগে 
একবার সীমান্তে লিখতে চাই -

কাঁটাতারে দেশ ভিন্ন হয় নাগরিক নয়।











ছবি ঋণ:গুগল।

Monday, 21 November 2022

দূরত্ব - ২

 


প্রতিদিন একটু একটু করে সরে যায় রোদ 
চিলেকোঠা থেকে ঠাকুরঘর
সেখান থেকে পরিত্যাক্ত আঁতুড়ঘর পেরিয়ে
বারগা ঘেঁষা ভাঙ্গা কার্নিশে রোদ সরে যায় প্রতিদিন।
আসলে
প্রতিটি অক্ষরেখায় রোদের বিন্যাস আলাদা।
ওই
রাষ্ট্র ও অগণিত জনগণের সম্পর্কের মত
রোজই একটু একটু করে সরে যায়...



Friday, 28 October 2022

দূরত্ব - ১

 


মিছিল
তারপর আরও একটা মিছিল
অনেক অনেক পা।
অনেক পতাকায় মোড়া
একটা সাজানো সভ্যতা।
মিছিলের শেষে পতাকায় যে বৃদ্ধা
তার কাছে পৌঁছায় না স্লোগান

ঠিক যেমন নাগরিক দূরে থাকে রাষ্ট্রের।


আমার রাষ্ট্র পুড়ছে

  শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি  পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া  মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম। চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে পুড়ে যাচ্...