Thursday, 3 April 2025

আমার রাষ্ট্র পুড়ছে

 




শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি 

পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া 

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম।


চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে

পুড়ে যাচ্ছে দলিল

আর...



উত্তর প্রজন্ম।

Wednesday, 11 September 2024

নষ্ট চোখ

 


রোজ বেচুদার গোলার পাশ দিয়ে যাচ্ছি 

আর দাঁড়িয়ে পড়ছি।

একটু একটু করে গড়ে উঠছে

 মা...

 মায়ের হাত পা চোখ...

 আমি দেখছি তিলোত্তমার হাত পা চোখ খসে পড়ছে একে একে।


আসলে

আমার চোখটাই নষ্ট করে দিয়েছে রাষ্ট্র...

Thursday, 27 June 2024

একটি ছাদহীন কবিতা


 

আমার ছাদ নেই।

সাজানো রঙিন খেলনা পিচ রাস্তা রঙিন করছে এখন
খুব বৃষ্টি হয়েছে কাল
ভাগ্যিস ...
তাই চোখের জল দেখে ফেলেনি কেউ।
মনির দোকানের চুড়ি 
অভির গাছ পাকা আম
মন্টুর জামা ফ্রক....
সব রাস্তায় গড়াচ্ছে।
আবার বৃষ্টি আসছে
আমার চালের বস্তা একটু একটু করে খালি হচ্ছে।
না এখনও আমার চোখের জল দেখা যাচ্ছে না।

কাল থেকে আমার ফুটো ছাদটাও নেই।

Wednesday, 14 February 2024

নগ্ন জন্মভূমির প্রতি



তোমার সিঁদুর কিংবা তোমার প্রিয় শাড়ি... 
আচ্ছা ধরো তোমার সালোয়ার বা ওড়না 
এসব তোমার কি ছিলো?
না রাষ্ট্র ভালোবেসে কেড়ে নিয়েছে ?
মাটি, ধানক্ষেত, কুঁড়ে ঘরের পরে
তোমার শরীরেও খাজনা নিচ্ছে রাষ্ট্র!!


এই নগ্ন দেশই কি আমার জন্মভূমি!!!

Sunday, 19 November 2023

যুদ্ধবিরতির কবিতা

 

সব যুদ্ধ থেমে গেলে 
তোমার কাছেই ফিরবো 
বসবো।
তুমি চুলে বিলি কাটতে কাটতে 
যুদ্ধবিরতির গান শোনাবে ।


যুদ্ধে তোমার হারের জন্য দায়ী করবে আমায়।
আমি শ্রান্ত মুখে সব ছেঁড়া কবিতার পাতা 
তোমার হাতে গুছিয়ে দিয়ে 
কয়েকটা প্রাণ খুঁজতে বেরোবো।


যুদ্ধ থামলে আমায় ডেকো 
ভাঙা ইটের থেকে খুঁজে নেবো 
কয়েকশো বছরের নিথর শিশুর দেহ 
যা আরও একশো বছর প্রাণ যোগাবে 
জনহীন মহল্লায়।


Thursday, 28 September 2023

বাবা


 বৃষ্টি শেষ

শব্দ করে ট্রেন চলে গেলে

বাইরে এসে দাঁড়ালাম ।

বাবা নতুন ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে...

ভাবলাম ভিজে যাবি তাই চলেই এলাম।

নিজের জন্য সেই ফুটো ছাতাটাই

চুল গড়িয়ে জল পড়ছে চোখের পাতায়...


বাবাকে কোনওদিন কাঁদতে দেখিনি আমি।

Thursday, 21 September 2023

আজেবাজে লেখা ৯


 

মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছিঁড়ে ফেলে দিই। 

অকথ্য কবিতা, অযথা উচ্চারণ, মঞ্চ,ফুল,হাততালি এসব দিয়ে কবিতা সেজে উঠছে রোজ।এসব দেখে রাগে মাথা যন্ত্রণা করে।

জানিনা ওই লোকটা কতদিন অভুক্ত থেকে প্রাণ ভরে মাখা ভাত খাচ্ছে মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে। ভাতের দানা ছড়িয়ে যাচ্ছে, জড়িয়ে যাচ্ছে দাড়িতে।

এর থেকেও বড় কবিতার জন্ম হয়েছে নাকি পৃথিবীতে?

Sunday, 9 July 2023

একটি শান্তির কবিতা

 


১৭ টি লাশের ওপর দাঁড়িয়ে 
প্রাত:রাশ সেরে নিচ্ছে রাষ্ট্র।
উৎসবে মেতে থাকা নাগরিক
বিস্ফারিত চোখে দেখছে
মানুষের রক্তের রঙ লাল।

মোটের ওপর শব্দহীন সবই
শুধু ওই ১৭ মায়ের কান্না ছাড়া ...

Wednesday, 5 July 2023

বিছানা

 


একটা বিছানায় সারা জীবন পড়ে থাকতে পারে। বই,অভিমান, কর্মক্ষেত্রের বিজ্ঞাপন,সিগারেট, ছেঁড়া কবিতার পাতা...মায়ের আঁচল দিয়ে সেলাই করা চাদর জুড়ে স্মৃতি।
শুধু চোখের জলের দাগটাই থাকেনা।





জীবন কি এভাবেই চলে যায় শুধু?
প্রেম আসেনা?পথিক আসেনা?
থমকে থাকে কি মহাজীবনের হেঁটে যাওয়া?
চাদর ঝেড়ে দিলেই কি বিছানার স্মৃতি সরে যায়?

Saturday, 22 April 2023

না ফেরার শব্দ

 


ফিরে আসছে রসুল চাচা

এক আকাশ জুড়ে আজ ঈদের চাঁদ।

এবারে ছোট্ট ঝোলায় মেয়েটার জন্য একটাই সালোয়ার

নিজের তো বছর দুয়েক আগের কেনা লুঙ্গি আছেই

বউও তো এই পুজোয় শাড়ি কিনলো একটা...



কারখানা টা পরশু থেকে বন্ধ হয়ে গেল।

আর ফিরতে হবে না ঘিঞ্জি নোংরা শহরটায়।

Thursday, 20 April 2023

কেউ ফেরে না

 



কেউ ফেরে না।ফিরে আসার সব পথ আগলে রাখে কাঁটাতার। যুদ্ধ শেষে মৃত সৈনিক ঘরে ফেরেনা,ফিরে আসে তার লাশ।গরম হাওয়ার সাথে দু এক টুকরো বাঁশির শব্দ ভেসে আসে। ওই বাঁশি শুনবো বলেই তো ফিরিনি। ফিরবোনা আর কোনওদিন।


সবাই ফেরে না।কেউ কেউ ছেড়ে যায়।ফিরে আসার কথা দিয়েও কেউ কেউ ফেরেনা। গত জন্মের মৃত দাগ ফিরে আসে স্মৃতি হয়ে।সবাই ফিরে আসুক সবাই চায় না।


যে ফিরে এসেছে সে ফিরে আসতে চায়নি মাটিতে। মাটিই তাকে ফিরিয়ে এনেছে পূর্বপুরুষের ভিটায়।এখন ভিটে জুড়ে শুধুই কান্না।


আরও কতজনের ফিরে আসার কথা ছিলো, কই তারা ফিরলো না তো...


Saturday, 11 February 2023

বসন্ত রং

 




এক ঘর বসন্ত রং নিয়ে
বসে আছি।
তোমার শীতের চুল শুকানো গন্ধ
আমার ফেলে আসা নদীকে মনে করায়।
যে নদীর ধারে তোমায় দেখে বনলতা ভেবেছিলাম।


একটু একটু করে হাওয়া দিচ্ছে
ভাবছি বসন্ত নয় হেমন্ত দিন ।
তোমার প্রিয় বলে বসন্তেই ঘর বাঁধছি।
ঘরের ভিতর ঘর 
মনের ভিতর ঘর
সব একাকার।


প্রেমের কবিতা লিখতে গিয়ে 
রোদের ভিতর হারিয়ে যাচ্ছি।
মনে পড়ছে আমার শৈশব
গ্রামের বাড়ি
দিদার জলচৌকি।
তাতে ঠাকুরের জামা শুকোচ্ছে।


তোমায় নিয়ে একদিন সীমান্তে যাবো
ওপারের রোদ কিভাবে এপারে আসে
তোমায় দেখাবো।
তোমায় দেখাবো একটা ছেঁড়া জামা
বসন্ত রঙের
আমার দাদুর।
দিদুনের বাড়ি থেকে পাওয়া
শেষদিন অবধি যত্নে রাখা।
আহা কি ভালোই না বাসতো।


চলো একটু রং মাখি
তোমার হাতে প্রতিশ্রুতির কুঁড়ি দিই একটা দুটো
ফুটলে ফেলে দিও
প্রেমিক গাছ পাতা ঝরতে ঝরতে
একদিন ঠিক গুছিয়ে নেবে নিজেকে।



এক ঘর বসন্ত রং নিয়ে
বসে আছি।
তোমার চুলের গন্ধ আসছে।
পলাশ রাঙা আকাশ দেখছি -
আমি লীন হয়ে যাচ্ছি
বসন্তে।


Friday, 3 February 2023

হাতটা এবার মুঠো করে নাও

 




প্রতি রাতে একটি নাগরিক হত্যা হচ্ছে
আমার আকাশে।
সে আমার প্রতিবেশী হতে পারে
বা বন্ধু কিংবা অচেনা...
রাষ্ট্র এগিয়ে আসছে দাঁত নখ বার করে
আমার দিকে!

পাখির ডাক নরম হয়ে আসছে
গোধূলির আলোয়
এসো দু দণ্ড বসি
একটু কথা বলি।

Tuesday, 17 January 2023

দাফন

 



আমার শেষ কবিতার দাফন সারলাম আজ
চারিদিকে টুকরো টুকরো কিছু মাটি
ছেঁড়া কাগজ
অনেকগুলো অসম্পূর্ণ কবিতা...
দেশভাগের দলিল টা পড়ে রইলো 
আমার সাথে আসা প্রায় তিরিশ জনের কাছে।
মায়ের মুখটা মনে পড়লো একবার
খুব ভেঙে যাওয়া একটা মুখ।
বেশ কিছু পাঠক দূরে দাঁড়িয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছিল
কি লিখতে পারলাম কি পারলাম না।
আমার সন্তান এসে মাথায় হাত রাখলো
আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম।

ঘুম আসছে,গভীর ঘুম...




Sunday, 8 January 2023

ভাগশেষ

 


সকাল থেকে সন্ধ্যে ভাগ হলো 
ভাগ হলো দুপুর,
কাঁসার থালা,গেলাস, বাটি
পায়রা থাকার খাঁচা।
যা দু একটা ছেঁড়া নকশা ছিল...
কৃষ্ণকান্তের উইলের প্রথম ৪৬ পাতা
তাও ভাগ হয়ে গেল।
আমি ভাঙতে ভাঙতে শেষ পাঁচিলের কাছে দাঁড়ালাম।
আমার মায়ের হাতে এক গাছা চুড়ি,
বাবার চোখের জল নিয়ত লুকোনোর চেস্টা
সব শেষ ।


ভাগশেষ শুধু কাঁটাতার।


Sunday, 11 December 2022

যতবার পা দিয়েছি মহানগরে

 


যতবার পা দিয়েছি মহানগরে
ততবার দেখেছি অজস্র পায়ে ক্ষত
আমি ডিঙিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি
ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে যেতে চেয়েছি ক্ষতস্থানের।
মহানগর রাতে বিকিয়ে দিয়েছে শরীর
শরীর বেয়ে নেমেছে হিম।
আমি দেখেছি -
কিভাবে নগর ভেঙে জেগে ওঠে মহানগর
কিভাবে জল জেগে থাকে সারারাত
কিভাবে শব্দ ধীরে ধীরে শব্দহীন হয়
কিভাবে মানুষ খুঁজে নেয় আশ্রয় ।
দেখতে দেখতে পেরিয়ে নিয়েছি পথ
না রাজপথ।

যতবার পা দিয়েছি মহানগরে
দেখেছি...



Saturday, 3 December 2022

মৃত্যুর আগে

 


কি লিখেছি জানি না
আগামীদিনে লিখতে পারবো কিনা 
তাও জানিনা।
রাষ্ট্র আমার হাত থেকে কলম কেড়ে নেবে
না,নতুন কলম তুলে দেবে জানিনা।
শুধু মৃত্যুর আগে 
একবার সীমান্তে লিখতে চাই -

কাঁটাতারে দেশ ভিন্ন হয় নাগরিক নয়।











ছবি ঋণ:গুগল।

Monday, 21 November 2022

দূরত্ব - ২

 


প্রতিদিন একটু একটু করে সরে যায় রোদ 
চিলেকোঠা থেকে ঠাকুরঘর
সেখান থেকে পরিত্যাক্ত আঁতুড়ঘর পেরিয়ে
বারগা ঘেঁষা ভাঙ্গা কার্নিশে রোদ সরে যায় প্রতিদিন।
আসলে
প্রতিটি অক্ষরেখায় রোদের বিন্যাস আলাদা।
ওই
রাষ্ট্র ও অগণিত জনগণের সম্পর্কের মত
রোজই একটু একটু করে সরে যায়...



Friday, 28 October 2022

দূরত্ব - ১

 


মিছিল
তারপর আরও একটা মিছিল
অনেক অনেক পা।
অনেক পতাকায় মোড়া
একটা সাজানো সভ্যতা।
মিছিলের শেষে পতাকায় যে বৃদ্ধা
তার কাছে পৌঁছায় না স্লোগান

ঠিক যেমন নাগরিক দূরে থাকে রাষ্ট্রের।


Thursday, 20 October 2022

পাহাড়ের কথা

 


আমি প্রতিদিন ঘামি
ঘামে ভিজে যায় আমার কপাল
ঘামতে ঘামতেই পাহাড়ে উঠি
পাহাড় মানে দুটি দেশের ভাজ্য আর ভাজক।

দূর থেকে সবুজ 
আর সবুজ শেষ হলেই পাথর
শক্ত পাথর
আমার সংবিধানের ৪৬ ধারার থেকেও শক্ত।

পাথর শেষ হলে নদী আসে
পাহাড়ের গ্লানি।
এক কাপ চায়ে
তিব্বতী শরণার্থী জমিয়ে রাখে ভিটের যন্ত্রণা।

পাহাড়ের একটা জেদ আছে
সেই জেদের কাছেই
মাথা নত করে থাকে বিবাগী বাঁক
বাঁক ঘুরলেই রাষ্ট্র এঁকে দেয় যতিচিন্হ।
 




আমার রাষ্ট্র পুড়ছে

  শ্মশানে দাঁড়িয়ে আছি  পকেট হাতড়ে সোনালী রাজস্তম্ভ দেওয়া  মিথ্যা প্রতিশ্রুতি একটা দলিল পেলাম। চোখের সামনে আমার রাষ্ট্র পুড়ছে পুড়ে যাচ্...